মদিনার আকাশে কালাে মেঘ
তাঁহার বৃহত্তম বিপদের কারণ হইয়া দাঁড়াইল। রসূলুল্লাহ যে শিষ্যবৃন্দসহ নির্বিঘ্নে
মদিনায় গিয়া আশ্রয় লইয়াছেন এবং তিনি যে তথায় একটি রাষ্ট্রশক্তি গড়িয়া
তুলিতেছেন, এই চিন্তা কোরেশদিগের অন্তরে দারুণ ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার আগুন
জ্বালিল। এই শিশুরাষ্ট্র যদি ধীরে ধীরে বর্ধিত হয়, তবে ইহাই যে একদিন
মক্কাবাসীদিগের অশেষ অমঙ্গলের কারণ হইবে, ইহা তাহাদের বুঝিতে কষ্ট হইল না।
তাহা ছাড়া একটা ব্যর্থতা ও পরাজয়ের গ্লানিতে তাহাদের অন্তর ভরিয়া গেল। আনুপূর্বির
সকল কথা তাহাদের মনে পড়িল। মুহম্মদ এবং তাঁহার ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করিয়া
ফেলিবার জন্য কত চেষ্টাই না তাহারা করিয়াছে। মুহম্মদকে গালাগালি দিয়াছে, প্রহার
করিয়াছে, অত্যাচার করিয়াছে, সামাজিক বয়কট করিয়াছে, অবশেষে তাঁহার প্রাণনাশের
ষড়যন্ত্র করিতেও তাহারা কুণ্ঠিত হয় নাই। শিষ্যদিগের উপরও কত না অমানুষিক
অত্যাচার করিয়াছে। তাহার পরে অনেকে আবিসিনিয়ায় হিযরত করিয়া রক্ষা পাইয়াছে।
তাহাদিগকে ধৃত করিতে অথবা দেশে ফিরাইয়া আনিতেও তাহারা কত চেষ্টা করিয়াছে।
কিন্তু কোন চেষ্টাই তাহাদের সফল হয় নাই। অবশেষে সমস্ত বাধা উল্লঙ্ঘন করিয়া
মুহম্মদ আজ বিজয়ীর বেশে মদিনায় গিয়া উপস্থিত। হিযরতের দিন প্রাণপণ চেষ্টা
করিয়াও তাঁহাকে বন্দি করা সম্ভব হয় নাই। কাজেই মুহম্মদ ও তাঁহার শিষ্যবৃন্দের উপর
কোরেশদিগের ক্রোধ ও আক্রোশ যে এখন শতগুণ বর্ধিত হইবে, তাহাতে আর আশ্চর্য
কি?
এই সঙ্গে মদিনাবাসী আনসারদিগের উপরেও কোরেশদিগের ক্রোধের সীমা রহিল
। তাহারা কেন মক্কায় আসিয়া গােপনে গােপনে মুহম্মদের সহিত চুক্তি করিয়া গেল?
কোরেশদিগের পরাজয়ের কারণ ত প্রকৃতপক্ষেই মদিনাবাসীরাই। তাহারা যদি মুহম্মদ
ও তাঁহার শিষ্যদিগকে নিজ দেশে লইয়া গিয়া আশ্রয় না দিত, তবে কি আজ মুহম্মদ
এমনভাবে মাথা তুলিয়া দাঁড়াইতে পারিতেন? কখনই না।
কাজেই মদিনাবাসী মুসলমানদিগকেও জব্দ করিবার জন্য কোরেশগণ বদ্ধ পরিকর
হইল। ইহার জন্য সুযােগ জুটিতেও বিলম্ব হইল না। হযরতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাগাইয়া
তুলিবার উপকরণ তাহারা মদিনা নগরেই লাভ করিল প্রচুর। এই সময়ে আবদুল্লাহ্ বিন উবাই নামক খাজুরাজ বংশীয় সম্রান্ত প্রতিপত্তিশালী পৌত্তলিক মদিনায় বাস করিত
মদিনাবাসীদের উপর তাহার প্রভাব ছিল যথেষ্ট। রসূলুল্লাহর মদিনায় আগমনের পূর্ব
পর্যন্ত মদিনাবাসীরা আবদুল্লাহকে তাহাদের রাজা করিবে বলিয়া মনস্থ করিয়াছিল । কিন্তু
হযরতের শুভাগমনে সমস্তই ওলট-পালট হইয়া গেল। মদিনা রিপাবলিকের তিনিই
এখন প্রধান। মদিনাবাসীদের পূর্বমত তাই পরিবর্তিত হইয়া গেল। হযরতের অসামান্য
ব্যক্তিত্বের প্রভাবে আবদুল্লাহ বিন উবাইকে এখন নিষ্প্রভ দেখাইতে লাগিল। এইজন্য
স্বভাবতই তাহার ক্রোধ গিয়া পড়িল নিরাপরাধ হযরতের উপর। হযরতকে সে প্রতিদ্বন্দ্বী
মনে করিতে লাগিল। বলাবাহুল্য, কোরেশগণ এই সুযােগের সদ্ব্যবহার করিতে ছাড়িল।
না। তাহারা গােপনে পত্র লিখিয়া আবদুল্লাহকে হযরতের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করিতে
লাগিল। আবদুল্লাহও কোরেশদিগের এই দুরভিসন্ধিতে যােগ দিল ।
এদিকে ইহুদীরাও সন্ধিশর্ত মানিল না। সর্বপ্রকার ধর্মস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার
দান করা সত্ত্বেও তাহাদের চিরবিশ্বাসঘাতক মন হযরতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হইয়া উঠিল ।
কোন পয়গম্বরকেই যখন তাহারা ছাড়ে নাই, হযরত মুহম্মদকেই বা কেন ছাড়িবে?
তাহারা তলে তলে কোরেশদিগের সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইল ।
এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়িয়া মদিনায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্রশক্তিও ধীরে ধীরে
মাথা তুলিতে লাগিল। আঘাতে আঘাতে তাহার ঘুমন্ত ক্ষত্রিয়শক্তি জাগিয়া উঠিল
মদিনার মুসলমানগণ পরিষ্কার বুঝিতে পারিল, টিকিয়া থাকিতে হইলে তাহাদিগকে এখন
যুদ্ধমনা হইতে হইবে।
হযরত এইবার নবমূর্তিতে দেখা দিলেন। এতদিন তিনি বিধর্মীদিগের অত্যাচার
নীরবে সহ্য করিয়া আসিয়াছেন, বাধ্য হইয়া দেশত্যাগ করিয়াছেন। কিন্তু এইবার তিনি
এই নীতি পরিত্যাগ করিলেন। তিনি দেখিলেন, নিস্ক্রিয় প্রতিরােধ বা হিযরত একটা
সাময়িক প্রক্রিয়া মাত্র; উহা দ্বারা স্থায়ী জয়লাভ হয় না। বলিষ্ঠ জাগ্রত জীবনের উহা
লক্ষণ নহে; বাঁচিয়া থাকিতে হইলে অত্যাচারী যালিমকে সক্রিয়ভাবে বাধা দিতে হয়
এবং যতদিন না তাহাতে জয়লাভ করা যায়, ততদিন সংগ্রাম চালাইতে হয় । ইহাই
ভাবিয়া রসূলুল্লাহ এইবার শত্রুর সহিত যুদ্ধ করিবেন বলিয়া মনস্থ করিলেন ।
কিন্তু একটা দ্বিধা আসিয়া মহানবীর মনের চারিপাশে ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল। যুদ্ধ
মানে ত অস্ত্রাঘাত, খুনখারাবি, নরহত্যা, লুণ্ঠন এইসব। আল্লাহর রসূলের পক্ষে কি এই
নিষ্ঠুরতা শােভা পায়? তিনি ত চাহেন প্রেম, শান্তি ও মিলন। সেই আদর্শের সঙ্গে যুদ্ধের
ভয়াবহ তাণ্ডবতার সামঞ্জস্য কোথায়? রসূলুল্লাহর মনে এই জিজ্ঞাসা জাগিল ।
এই সময় কয়েকটি আয়াত নাযিল হওয়ায় হযরতের মনের দ্বন্দ্ব দূর হইয়া যায় ৪
“আল্লাহ্র পথে তাহাদের সহিত যুদ্ধ কর যাহারা তােমার সহিত যুদ্ধ করে। তবে
সীমা লংঘন করিও না, কারণ আল্লাহ্ সীমালংঘনকারীদিগকে ভালবাসেন না।” “এবং তাহাদিগকে যেখানে পাও হত্যা কর এবং যেখান হইতে তাহারা তােমাকে
তাড়াইয়া দিয়াছে সেখান হইতে তুমিও তাহাদিগকে তাড়াইয়া দাও। নিশ্চয় হত্যা
অপেক্ষা অত্যাচার বেশি ভয়াবহ।”
(২ ঃ ১৯২)
“যুদ্ধ তােমাদের জন্য অবধারিত কর্তব্য করা হইল যদিও তােমরা ইহা কঠোর মনে
করিতেছ। তােমাদের জন্য যাহা মঙ্গল তােমরা হয়ত তাহাই পছন্দ করিতেছ না। আবার
যাহা তােমাদের পক্ষে অমঙ্গলজনক হয়ত তাহাই ভালবাসিতেছ। আল্লাহই সব জানেন,
তােমরা জানাে না।"
নূরনবী এইবার ইসলামের মর্মবাণী খুঁজিয়া পাইলেন। বুঝিলেন ইসলাম নিষ্ক্রিয়
প্রেম বা শান্তির ধর্ম নহে। এতদিন বৈরাগ্য, সন্ন্যাস, অহিংসা, প্রেম, ক্ষমা ইত্যাদিই ছিল
মানুষের পরম ধর্ম। সংঘর্ষ, যুদ্ধবিগ্রহ, নরহত্যা, ইত্যাদি কর্মকে মহাপাপ বলিয়াই সকলে
মনে করিত। কিন্তু নূরনবী আজ দিব্যদৃষ্টি দিয়া দেখিলেন ঃ যালিমকে বাধা দেওয়া,
দুশমনকে দমন করা, শত্রুপক্ষের অস্ত্রশস্ত্র বা রসদপত্র লুট করিয়া নেওয়া, অথবা
প্রয়ােজন হইলে শত্রর প্রাণবধ করিবার মধ্যেও অশেষ কল্যাণ নিহিত থাকিতে পারে।
জীবনের প্রেম, ক্ষমারও যেমন প্রয়োজন, যুদ্ধ বিগ্রহেরও ঠিক তেমনি প্রয়ােজন। কোন
প্রবৃত্তিই সৎ বা অসৎ নহে। ব্যবহারের উপরই প্রত্যেক জিনিসের ভালমন্দ নির্ভর করে।
কাম ক্রোধ লােভ মােহ মদ মাৎসর্য প্রত্যেকেরই প্রয়ােজন আছে; চাই শুধু শুদ্ধিকরণ বা
(Sublimation) কামকে শুদ্ধ করিলে প্রেমে রূপান্তরিত হয়, বিশুদ্ধ ক্রোধ প্রেরণা রূপে
ধর্মে উসাহ দিতে পারে; শুদ্ধিকৃত লােভ আগ্রহ বা আকর্ষণ রূপে আমাদের অশেষ কল্যাণ
সাধন করে। সেইরূপ যুদ্ধ বা সংগ্রামেরও একটা বিশুদ্ধ রূপ আছে । তাহার নাম জিহাদ;
সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের জন্য, আদর্শের জন্য, ধর্মের জন্য এক কথায় আল্লাহর জন্য
যে যুদ্ধ, সে যুদ্ধ পবিত্র। এই যুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অতি মহৎ। লুণ্ঠন, নরহত্যা,
রাজ্যজয় ইত্যাদি ইহার লক্ষ্য নহে -অসত্য, অন্যায় ও অত্যাচারকে জয় করিয়া সত্য
প্রীতি, প্রেম ও শান্তি প্রতিষ্ঠাই হইল জিহাদের মূল লক্ষ্য।
ঠিক এ পরিস্থিতিই আজ রসূলুল্লাহর সামনে উপস্থিত। আজ তিনি জিহাদের জন্য
উখ। জিহাদ আজ তাহার নিকট ফরজ। শান্তির জন্যই আজ যুদ্ধের প্রয়ােজন। প্রেম
ও ক্ষমার নীতি আজ ব্যর্থ। “এক গালে চড় মারিলে অপর গাল ফিরাইয়া দাও" - এই
নীতিবাক্য আজ মহাপাপ। কেননা ইহার মধ্যে আছে দুষ্কৃতি প্রশ্রয় ও যালিমের সমর্থন।
অতীতের সব কথা রসূলুল্লাহর আজ মনে পড়িল। কোরেশগণ দীর্ঘদিন ধরিয়া তাহার
উপর এবং তাহার শিষ্যদের উপর কী অমানুষিক অত্যাচারই না করিয়া আসিয়াছে।
ঘরবাড়ি, টাকাকড়ি, আত্মীয় স্বজন, এমন কি স্বদেশ ত্যাগ করিয়া তাঁহাদের সকলকে
আসিতে হইয়াছে, তবু সেই পাষণ্ডদিগের অত্যাচারের বিরাম নাই কেন? কি অপরাধে
তাঁহাদের এ দুর্গতি, এত উৎপীড়ন? একমাত্র অপরাধ তাঁহারা শান্তভাবে আল্লাহর
এবাদত করিতে চাহিয়াছেন। কাহারও ধর্মে হস্তক্ষেপ করেন নাই, কাহারও উপর
আক্রমণ করেন নাই। যুলুম করেন নাই, শুধু নিজ ধর্ম পালনের অধিকারটুকু চাহিয়াছেন। ইহাই কি এত অপরাধ? ইহারই জন্য এত যুলুম? দেশত্যাগ করতেও
নরপশুগণ সন্তষ্ট হয় নাই । মদিনা আক্রমণ করিয়া মুহম্মদ ও তাঁহার ভক্তবৃন্দকে কিভাবে
নির্মূল করিবে, এই ষড়যন্ত্রে এখনও তাহারা লিপ্ত।
রসূলুল্লাহর মন তাই ধীরে ধীরে জিহাদের রঙে রাঙা হইয়া উঠিতে লাগিল ।
ইসলামের দৃপ্ত মূর্তি এইবার তাঁহার মানস-নয়নে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল।
ঠিক এই সময়ে মক্কা হইতে কোরেশগণ অতর্কিতে মদিনার উপকণ্ঠে আসিয়া
কয়েকবার লুটতরাজ করিয়া গেল।
কোরেশগণের দুরভিসন্ধি বুঝিতে পারিয়া রসূলুল্লাহ্ আবদুল্লাহ্ ইবনে জাহশ নামক
জনৈক মােহাজিরের নেতৃত্বাধীনে একটি গােয়েন্দাদল গঠন করিয়া মক্কা সীমান্তে
পাঠাইয়া দিলেন। তাহাদিগকে এই উপদেশ দেওয়া হইল যে, তাহারা সেখানে থাকিয়া
কোরেশদিগের গতিবিধি ও সমরায়ােজন সম্বন্ধে গােপন তথ্য সংগ্রহ করিয়া ফিরিয়া
আসিবে। এই দলের লােকসংখ্যা ছিল আটজন। সন্ধানীদল মক্কার নিকটবর্তী নাখলা।
নামক স্থানে উপনীত হইলে তাহাদের সঙ্গে হঠাৎ একটি ক্ষুদ্র কোরেশ কাফেলার
মােকাবেলা হইয়া গেল। তাহারা সংখ্যায় ছিল মাত্র চারিজন। কোরেশগণ
অপ্রত্যাশিতভাবে মদিনাবাসী মুসলমানদিগকে মক্কার এত নিকটবর্তী দেখিতে পাইয়া
বিচলিত হইয়া পড়িল। সন্ধানী দলও হঠাৎ শত্রুর সম্মুখীন হওয়ায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত
হইল। উভয় দলে তখন সংঘর্ষ আরম্ভ হইয়া গেল। ফলে একজন কোরেশ নিহত ও
দুইজন বন্দী হইল। চতুর্থ ব্যক্তি কোনমতে পালাইয়া প্রাণ বাঁচাইল।
আবদুল্লাহ্ ও তাহার সঙ্গীগণ পরিত্যক্ত মালপত্র ও বন্দীদ্বয়কে সঙ্গে লইয়া মদিনায়
ফিরিয়া আসিলেন। তখন ছিল পবিত্র রজব মাস। এই মাসে আরবে যুদ্ধ বিগ্রহ নিষিদ্ধ
ছিল। আবদুল্লাহর কৃতকর্মে রসূলুল্লাহ্ তাই রুষ্ট হইলেন। বিধর্মীরাও রসূলুল্লাহকে নিন্দা
করিবার একটা সুযােগ পাইল। কিন্তু এই সময়ে কোরআনের একটি আয়াত নাযিল
হওয়ায় তাহার মনের সন্দেহ দূর হইল ঃ
“তাহারা তােমাকে জিজ্ঞাসা করিতেছে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা জায়েজ কি না। বল
পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা গুরুতর অন্যায়। কিন্তু আল্লাহকে অস্বীকার করা, আল্লাহর
ভক্তদিগকে তাঁহার পথে চলিতে ও পবিত্র মসজিদে যাইতে বাধা দেওয়া এবং
(বিশ্বাসীদিগকে) সেখান হইতে তাড়াইয়া দেওয়া আল্লাহর চোখে অধিকতর অন্যায় এবং
হত্যা অপেক্ষা অত্যাচার বেশি ভয়াবহ।”
(২ ঃ ২১৭)
এই আয়াতে আবদুল্লাহর কার্যের সমর্থন মিলিল। রসূলুল্লাহর মন শান্ত হইল।
লুষ্ঠিত দ্রব্যগুলি তখন তিনি স্বেচ্ছাবাহিনীর মধ্যে যথারীতি বণ্টন করিয়া দিলেন। এইসব
কান্ডের ফলে কোরেশদিগের মধ্যে যুদ্ধের উন্মাদনা আরও বাড়িয়া গেল। পূর্ণোদ্যমে
তাহারা যােদ্ধা, হাতিয়ার, রসদপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করিতে প্রবৃত্ত হইল। চারিদিক হইতে
চাদা আসিতে লাগিল। যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র ও রসদপত্র ক্রয় করিয়া আনিবার জন্য পঞ্চাশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা এবং এক হাজার উট লইয়া আবুসুফিয়ান সিরিয়া গমন করিল।
এইদিকে রসূলে করিমও মদিনায় গিয়া নিশ্চেষ্ট বসিয়া ছিলেন না। মক্কাবাসীরা
কোথায় কোন ষড়যন্ত্র করিতেছে, মদিনার ইহুদী ও নাসারাগণ কখন কিভাবে
কোরেশদিগের সঙ্গে গােপনে মেলামেশা করিতেছে, সমস্ত খবরই তিনি রাখিতেন।
হযরতের চাচা আব্বাস মনে মনে ইসলাম গ্রহণ করিলেও এতদিন যে তাহা প্রকাশ করেন
নাই, তাহার গৃঢ় কারণ এই যে, গােপন তথ্য সংগ্রহ করিয়া পাঠাইবার জন্যই তিনি
মক্কাতে রহিয়া গিয়াছিলেন। কোরেশগণ মনে করিয়াছিল আব্বাস পূর্ববৎ পৌত্তলিক
হইয়াই আছেন। কিন্তু তাহা নহে। ইহা নিছক গােয়েন্দাগিরি । বলা বাহুল্য, আব্বাস যে
লােকচক্ষুর আড়ালে থাকিয়া ইসলামের কত বড় খিদমৎ করিয়াছেন এবং দুর্দিনে
ইসলামকে মুক্তির পথে যে কতখানি আগাইয়া দিয়াছেন, সে কথা চিন্তা করিলে বিস্মিত
হইতে হয়। আবুসুফিয়ান যে কখন কিভাবে কোন্ পথ দিয়া অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করিবার জন্য
সিরিয়া গমন করিয়াছে এবং কখন কোন পথ দিয়া ফিরিয়া আসিবে, সে সব কথা
আব্বাসের মারফতেই হযরত জানিতে পারিয়াছিলেন এবং সেই অনুসারেই তিনি প্রস্তুত
হইতেছিলেন।

Comments
Post a Comment